করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কলেজে ভর্তি নয়

প্রতিবছর ১ জুলাই থেকে সারা দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হয়। কিন্তু এবার করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে কলেজে ভর্তিপ্রক্রিয়াই শুরু করা সম্ভব হয়নি। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কলেজে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না বলে আন্ত শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। এমনকি রাজধানীর চার্চ পরিচালিত চার কলেজ, যারা পৃথকভাবে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে তারাও এবার শিগগিরই ভর্তি শুরু করতে পারছে না।

এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের কলেজে ভর্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন না হতে আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। গতকাল শনিবার এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘যারা এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে, কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে, তাদের অনেক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আমি বলব যে ভর্তি নিয়ে একেবারেই উদ্বিগ্ন হবে না।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, পরীক্ষা-ভর্তি এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। এর সঙ্গে জড়িত বহুসংখ্যক মানুষের স্বাস্থ্যকে তো আমরা ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারি না। যখন আমাদের এ পরীক্ষা নেওয়ার মতো স্বাস্থ্য ঝুঁকিবিহীন পরিবেশ তৈরি হবে, আমরা তখনই পরীক্ষাটি নিতে পারব।

জানা যায়, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে তা প্রকাশিত হয় ৩১ মে। আর এসএসসির ফল প্রকাশের পরও কলেজে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে দেড় মাস পিছিয়ে পড়েছে সদ্য এসএসসি ও সমমানের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা। কবে নাগাদ একাদশে ভর্তি শুরু করতে পারবে, তা বলতে পারছে না আন্ত শিক্ষা বোর্ডও। ফলে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় ১৭ লাখ শিক্ষার্থীই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

সূত্র জানায়, দেশের সব কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে জিপিএর ভিত্তিতেই ভর্তি করা হয়। কিন্তু ব্যতিক্রম রাজধানীর চার্চ (খ্রিস্টান মিশনারি) পরিচালিত চার কলেজ। সেগুলো হলো নটর ডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজ, সেন্ট জোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সেন্ট গ্রেগরীজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ। তারা ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করে থাকে। গত ২ জুন ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এক নির্দেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এসব কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তির নির্দেশ দিয়েছিল। কলেজগুলোও জিপিএর ভিত্তিতে ভর্তিপ্রক্রিয়া শুরু করে। কিন্তু ৩ জুন অন্য এক নির্দেশে সেই ভর্তিপ্রক্রিয়াও স্থগিত করা হয়।

একাদশ শ্রেণিতে কবে নাগাদ ভর্তিপ্রক্রিয়া শুরু করে, তা আন্ত শিক্ষা বোর্ড না জানাতে পারলেও কিছু কলেজ ঠিকই প্রচার-প্রচারণা শুরু করে দিয়েছে। এতে বিভ্রান্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। গত ১৪ জুন কলেজগুলোর প্রচারণা বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক স্বাক্ষরিত নির্দেশে বলা হয়, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব অনলাইনে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রচার করছে, তা ভর্তি নীতিমালা ২০২০-২১ পরিপন্থী। অবিলম্বে এ ধরনের প্রচারণা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলো। আন্ত শিক্ষা বোর্ডের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ছাড়া কোনো কলেজে ভর্তি না হতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হলো।

জানা যায়, অনলাইনে কলেজে ভর্তি আবেদন গ্রহণ করা হলেও শিক্ষার্থীরা কম্পিউটারের দোকানে যাবে, কলেজে যাবে। আবার মোবাইল ফোনে টাকা জমা দিতেও দোকানে যেতে হবে। কারণ সব শিক্ষার্থীর পক্ষে বাসায় বসে অনলাইনে আবেদন করা সম্ভব নয়। আবার নানা ভুলভ্রান্তির কারণে বোর্ডেও আসতে হয়। ফলে ভর্তিপ্রক্রিয়া শুরু হলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়। এ জন্যই এই মুহূর্তে ভর্তিপ্রক্রিয়া থেকে সরে এসেছে আন্ত শিক্ষা বোর্ড।

About Bangla Gov Jobs

Check Also

২০২২ শিক্ষাবর্ষে সকল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য

সরকারি হাইস্কুলে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি তথ্য ২০২২। ২০২২ শিক্ষাবর্ষে বিভাগীয় শহর, জেলা  ও উপজেলা  পর্যায়ে অবস্থিত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে WEB ও SMS এর মাধ্যমে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২২ প্রকাশ হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করে ও টেলিটক প্রিপেইড সিম এর মাধ্যমে ১১০ টাকা আবেদন ফি জমা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *