অনুদানের টাকা: শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবেদনের সময় বাড়ল

বিশেষ মঞ্জুরির অনুদানের টাকা পেতে স্কুল-কলেজ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের আবেদনের সময় বাড়ানো হয়েছে। চলতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আজ (০৭ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ–সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে।

আদেশে মন্ত্রণালয় বলা হয়েছে, বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থীদের বিশেষ অনুদান দেওয়ার জন্য অনলাইনে আবেদন সময় ১৫ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হলো।

বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের বিশেষ মঞ্জুরির অনুদানের টাকা বিতরণের উদ্যোগ নেয় সরকার। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের এ টাকা পেতে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হয়েছিল। অনলাইনে আবেদনের সময় ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সে সময় বাড়ানো হয়েছে। ১৫ মার্চের মধ্যে বিশেষ মঞ্জুরির অনুদানের টাকা পেতে আবেদন করতে হবে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে।

শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অনুদান বাবদ বরাদ্দের টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পাঠানো হবে। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বরাদ্দের টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।

সরকারি এবং বেসরকারি এমপিওভুক্ত ও নন–এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসা, দৈব–দুর্ঘটনা এবং চিকিৎসার খরচের জন্য বিশেষ মঞ্জুরির অনুদান প্রাপ্তির আবেদন করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী, অসহায়, অসচ্ছল ও মেধাবী, অনগ্রসর সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পাবে। এ ছাড়া দেশের সব স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বা এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেরামত ও সংস্কার, আসবাব তৈরি, খেলাধুলার সরঞ্জাম ক্রয়, পাঠাগার উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীবান্ধব করার জন্য বিশেষ মঞ্জুরির অনুদানের আবেদন করা যাবে। তবে বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অনগ্রসর এলাকার অসচ্ছল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অগ্রাধিকার পাবে। আর বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা দুরারোগ্য ব্যাধি বা দৈব–দুর্ঘটনার জন্য মঞ্জুরির আবেদন করতে পারবেন।

যেভাবে আবেদন করতে হবে

অনুদানের টাকা পেতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক, কর্মচারী বা শিক্ষার্থীদের ১৫ মার্চের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে (www.shed.gov.bd) অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন করতে ক্লিক করুন এখানে

‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদানের আবেদন ফরম’ বাটনে ক্লিক করে অনলাইনে আবেদন করতে বলা হয়েছে। অনুদান পেতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের আর বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থীদের বিভাগীয় প্রধানের প্রত্যয়নপত্র আবেদনে সংযুক্ত করতে হবে। শিক্ষক-কর্মচারী ক্যাটাগরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সনদ ও দৈব–দুর্ঘটনার স্বপক্ষের প্রমাণ সংযুক্ত করে আবেদন করতে হবে। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অনুদানের আবেদনের ক্ষেত্রে ম্যানেজিং কমিটির প্রত্যয়ন সংযুক্ত করতে হবে।

অনুদান নিয়ে গুজব সম্পর্কে সতর্কতা :

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী, ছাত্রছাত্রীদের অনুদান দেওয়া হবে এমন কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। আবেদন যাচাই-বাছাই করে সীমিতসংখ্যক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অনুদান দেওয়া হবে।

কিন্তু অনুদানের এই ঘোষণা ইতিমধ্যে দেশজুড়ে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। ১০ হাজার টাকা করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অনুদান দেওয়ার গুজব ছড়িয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা।

এ জন্য সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। রোববার (৭ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবুল খায়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, আবেদন যাচাই-বাছাই করে সীমিতসংখ্যক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অনুদান দেওয়া হবে। এই বিষয়ে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

মাউশির সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি:

সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যক্তির মৌখিক অভিযােগ হতে জানা গেছে যে, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের অনুদান প্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারক চক্র কর্তৃক ভিন্ন ভিন্ন মােবাইল ফোনে NID, বিকাশ নম্বর ও গােপন পিন ইত্যাদি চাওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে “শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশেষ অনুদান” বিষয়ে ইতােপূর্বে কাউকে ফোন দেয়া হয়নি এবং NID, বিকাশ নম্বর ও গোপন পিন সংক্রান্ত কোন তথ্যও চাওয়া হয়নি। এ বিষয়ে প্রতারক চক্র হতে সতর্ক থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশক্রমে অনুরােধ করা হলাে।

About Bangla Gov Jobs

Check Also

অভিযোগ ও অসন্তোষে জর্জরিত বশেমুরবিপ্রবির বিজয় দিবস হল

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) বিজয় দিবস হলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিযোগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে কথা বলে জনা গেছে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) অনুদানে হলে যে সংস্কারকাজ হয়েছে তাতে তারা সন্তুষ্ট নন। এছাড়া, হলের গণরুমের পরিবেশ, খাবারের মানসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও অভিযোগ রয়েছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *